আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোরঃ-
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কীর্তিপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী তরুণ পারভেজ হোসেনকে হত্যা করে তার ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিকেলে ভ্যান নিয়ে বের হওয়ার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন বিকেলে উপজেলার আঙ্গারপাড়া গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারভেজ হোসেনের বাবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন পারভেজ। এক দয়াশীল ব্যক্তির সহায়তায় পাওয়া ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। ভ্যান চালিয়ে যা আয় হতো, তাতেই চলত তার অসহায় পরিবার। ভিক্ষার জীবন ছেড়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার যে পথ তিনি তৈরি করেছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশ জানায়, মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভ্যানটি নিখোঁজ রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ঝিকরগাছা উপজেলা জুড়েই শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পারভেজ ছিলেন শান্ত ও পরিশ্রমী যুবক। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছে। অন্ধ বাবা ও স্বজনদের আহাজারিতে এলাকাজুড়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিকরগাছা থানার ওসি (তদন্ত) জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিহত পারভেজের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
একটি সামান্য ভ্যানের লোভে একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় মানবিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পারভেজের মৃত্যু যেন পুরো জনপদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।